domarnews24.com

ডোমারে অধিগ্রহণ করা জমির ন্যায্যমূল্যের দাবিতে মানববন্ধন

  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭ Time View
গ্রিড সাব-স্টেশন নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা  জমির ন্যায্যমূল্যের দাবিতে নীলফামারীর ডোমারে মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্তরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বড়রাউতা গ্রামের সাহার উদ্দিন পাড়ায় এই মানববন্ধন করা হয়।
এ সময় ভুক্তভোগীরা বলেন, ঢাকা অ্যান্ড ওয়েস্টার্ন জোন ট্রান্সমিশন গ্রিড এক্সপানশন প্রকল্পের আওতায় ১৩২/৩৩ কেভি সাব-স্টেশন নির্মাণের জন্য ৪৯৭ শতাংশ তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়।  তবে জেলা প্রশাসন থেকে প্রতি শতাংশ জমির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ১২ হাজার টাকা, যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় অনেক কম।
এতে জমির মালিকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্তমান দর বেশি হওয়ায় অধিগ্রহণের টাকা দিয়ে অন্যত্র জমি কেনাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জমি হারিয়ে অনেককে ভূমিহীন হতে হবে। তাই তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি প্রতি শতাংশ জমি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত কেনাবেচা হয়েছে। কিন্তু সরকারি মূল্যায়নে প্রকৃত দর প্রতিফলিত হয়নি।
​সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, তারা সাব-স্টেশন নির্মাণের বিরোধী নন। তবে বাজারমূল্য অনুযায়ী প্রতি শতাংশ জমির ক্ষতিপূরণ কমপক্ষে আড়াই লাখ টাকা নির্ধারণের জন্য জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আবেদন জানিয়েছেন তারা।
জমির মালিক আব্দুল মজিদ বলেন, জেলা প্রশাসক ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের একটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগের অন্যান্য স্টেশনের জন্য কেনা জমির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ডিসি স্যার আমাদের জমির দাম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন দেওয়া হচ্ছে শতকপ্রতি ১২ হাজার টাকা। এটা কীভাবে সম্ভব? ডিসি স্যার যে দাম বলেছিলেন, সেটিও আমাদের জমির দামের চেয়ে কম। তারপরও আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম। প্রয়োজনে জান দিবো তবুও জমি দিবো।
জমির মালিক রুপালী বেগম বলেন, আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সংসারে যতটুকু জমি আছে, তার বেশির ভাগই এখানে। বর্তমানে এসব জমি বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর অর্ধেক দাম পেলেও আমাদের সমস্যা হতো না। কিন্তু যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাজারদরের চার ভাগের এক ভাগও নয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষক মানুষ। এখানে জমি বিক্রি করে অন্য জায়গায় জমি কিনে চাষাবাদ করে চলব—এটাই আমাদের পরিকল্পনা। কিন্তু জমির ন্যায্য দাম না পেলে অন্য জায়গায় জমি কিনব কীভাবে? আর চাষাবাদ করেই বা কীভাবে সংসার চালাব?
জমির মালিক রবিউল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁদের বৈঠকে অন্যান্য স্টেশনের জন্য কেনা জমির সর্বনিম্ন দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসার পর মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমি বিদ্যুৎ কোম্পানির নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা চাই, আমাদের জমির ন্যায্য মূল্য দেওয়া হোক। মামলা নিষ্পত্তি করে তারপর জমি রেজিস্ট্রি করা হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © Domar News 24
Design & Development By HosterCube Ltd.