domarnews24.com

সানা না পড়লে কি নামাজ শুদ্ধ হবে?

  • Update Time : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ১৩৬ Time View

সানা হলো তাকবিরে তাহরিমার পর পঠিত একটি সুন্নত দোয়া, যা আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতা বর্ণনার মাধ্যমে নামাজ শুরু করার একটি অংশ। সানা পুরো নামাজে একবার পড়তে হয়। তবে নামাজে কখনো সানা পাঠ বাদ পড়ে গেলে নামাজ কি শুদ্ধ হবে?

সানা না পড়লে কি নামাজ বাতিল হয়ে যায়?

সরাসরি উত্তর হলো—সানা না পড়লে নামাজ বাতিল হবে না। যেহেতু সানা পাঠ করা সুন্নত, এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়, তাই ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত সানা না পড়লে নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে। এর জন্য সাহু সিজদা দেওয়াও ওয়াজিব হয় না। তবে কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে এই সুন্নত ছেড়ে দেওয়া অনুচিত।

জামাতের নামাজে সানা পড়ার বিধান

জামাতে নামাজ আদায়ের সময় সানা পড়ার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।

জামাতে শরিক হওয়ার সময় ইমাম যদি নিচু স্বরে (যেমন জোহর বা আসর নামাজে) কেরাত পড়া অবস্থায় থাকেন, তবে মুক্তাদি শরিক হয়ে সানা পড়তে পারবে।

জামাতে শরিক হওয়ার সময় ইমাম যদি উচ্চ স্বরে (যেমন ফজর, মাগরিব বা এশা নামাজে) কেরাত পড়তে থাকেন, তখন মুক্তাদির জন্য সানা পড়া নিষেধ। কারণ তখন মনোযোগ দিয়ে কেরাত শোনা ফরজ।

যদি কেউ ইমামকে রুকুতে থাকা অবস্থায় পায়, তবে সে সরাসরি তাকবির বলে রুকুতে চলে যাবে। দাঁড়িয়ে সানা পড়ার প্রয়োজন নেই। সানা পড়তে গিয়ে রাকাত ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।

মাসবুক ব্যক্তির সানা পড়ার নিয়ম

যদি মাসবুক ব্যক্তি ইমামকে এমন অবস্থায় পায় যে সানা পড়ার সুযোগ নেই (যেমন ইমাম কেরাত শুরু করেছেন), তবে সে নামাজে শরিক হয়ে যাবে। এরপর ইমাম সালাম ফেরানোর পর যখন সে তার ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো আদায়ের জন্য দাঁড়াবে, তখন সানা পড়ে নেবে।

সানা পুরো নামাজে মাত্র একবারই পড়তে হয়। এটি নামাজের সৌন্দর্য ও সওয়াব বৃদ্ধি করে। যদিও সানা না পড়লে নামাজ ভেঙে যায় না, তবু রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতের পূর্ণ অনুসরণের জন্য সঠিক নিয়ম মেনে সানা পাঠ করা উচিত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © Domar News 24
Design & Development By HosterCube Ltd.