মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ। এই আকর্ষণকে পবিত্র ও হালাল করার একমাত্র মাধ্যম হলো বিয়ে। ইসলামে বিয়েকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বরকতময় ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, তার বিয়ে করা উচিত। কেননা বিয়ে চোখকে নিচু রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ (সহিহ্ বুখারি ও সহিহ্ মুসলিম)
তবে মানবসভ্যতা ও নৈতিকতা রক্ষায় ইসলাম নির্দিষ্ট কিছু নারীর সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া চিরতরে হারাম বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
কোরআনের আলোকে নিষিদ্ধ নারীগণ
পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ২৩ থেকে ২৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা একজন পুরুষের জন্য ১৪ জন নারীকে বিবাহ করা হারাম করেছেন। শরিয়তের পরিভাষায় এদের ‘মাহরাম’ বলা হয়। নিচে তাদের পরিচয় বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
- ১. মা: মা এবং দাদি, নানি ও তাঁদের ঊর্ধ্বতন সবাই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
- ২. মেয়ে: নিজের আপন কন্যা, ছেলের ঘরের নাতনি (পৌত্রী) এবং মেয়ের ঘরের নাতনি (দৌহিত্রী)।
- ৩. বোন: সহোদর বোন, বৈমাত্রেয় (সৎমায়ের মেয়ে) এবং বৈপিত্রেয় (সৎবাবার মেয়ে) বোন।
- ৪. ফুফু: বাবার সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন এবং বাবার ঊর্ধ্বতন পুরুষদের (দাদা-নানা) বোনেরা।
- ৫. খালা: মায়ের সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোন এবং মায়ের ঊর্ধ্বতন নারীগণের বোনেরা।
বিশেষ পরিস্থিতিতে আরও যাদের বিয়ে করা নিষেধ
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত ১৪ জন ছাড়াও আরও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট কিছু নারীকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ:
- দুই বোনকে একত্রে রাখা: আপন দুই বোনকে বা খালা-ভাগনিকে একত্রে এক বিয়েতে রাখা হারাম।
- চারজনের অধিক স্ত্রী: একসঙ্গে চারজনের বেশি নারীকে বিয়ে করা জায়েজ নেই।
- ইদ্দত পালনকারী নারী: অন্য পুরুষের তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা স্ত্রী যতক্ষণ ইদ্দত (নির্দিষ্ট সময়) পালন করছেন, ততক্ষণ তাকে বিয়ে করা যাবে না।
- তিন তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী: নিজের তিন তালাক দেওয়া স্ত্রীকে অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে ও বিচ্ছেদ হওয়া ছাড়া পুনরায় বিয়ে করা যায় না।
ইসলামের এই বিধানগুলো পারিবারিক পবিত্রতা রক্ষা এবং বংশীয় সম্পর্কের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য।