“সব তলায়া গেছে। কিছুই পাই নাই। ধার-দেনা কইরা সার বীজ কীটনাশক কিনছিলাম। কেমনে শোধ অইবো, আর কেমনে কী করবাম জানি না,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার হালুয়ারগাঁও এলাকার কৃষক আনোয়ার হোসেন।
আকাশের মেঘ যেমন কাটছেই না, সঙ্গে কমছে না হাওরের কৃষকের দুশ্চিন্তা। বরং, বাংলাদেশের বেশিরভাগ এলাকায় আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরপ্রধান এলাকায় রয়েছে বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও।
বৃষ্টি অব্যাহত থাকা কারণে হাওর অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং বন্যা পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রতিদিনই পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ বাড়ছে। ফলে একদিকে প্রায় পাকা ধান পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে, আবার তড়িঘড়ি করে কিছু এলাকায় ধান কাটা হলেও রোদ না থাকায় সেইসব ধানও পচে যাচ্ছে।
আবার বৃষ্টির কারণে নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। যদিও তা এখনো বিপদসীমায় পৌঁছেনি বলে বিভিন্ন জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সুনামগঞ্জের চাষি আনোয়ার হোসেন বলছিলেন, এবার দেড় কানি (প্রায় ৬০ শতাংশ) জমিতে ধান চাষ করলেও সামান্য পরিমাণ ধানও তিনি তুলতে পারেননি। তাদের পুরো অঞ্চলের চিত্রই প্রায় একই এবং কেউই তাদের পুরো ফসল ঘরে তুলতে পারেনি ধানসহ জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে।
একই ধরনের অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার আব্দুল্লাহপুর-খয়েরপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ জসিম।
“হাজার হাজার কানি ক্ষেত এখন পানির তলে। ধানটা লাল হয়ে আসছিল। কমলার মতো রং। সকাল কাজ করে আসলাম, আর দুপুরে গিয়া দেখি পানি। কাটার সময়ই পাইলাম না। পরদিন পুরোটাই তলায়া গেল,” নিজের জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাবার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি এভাবে।