domarnews24.com

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন থালাপতি বিজয়

  • Update Time : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ১৬৫ Time View

ভারতের তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘ ছয় দশকের দ্রাবিড় আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে অভিনেতা থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া সি জোসেফ বিজয় ইতিহাস গড়লেন। রোববার (১০ মে) সকালে চেন্নাইয়ের এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তামিলাগা ভেট্টিরি কাঝাগাম (টিভিকে) প্রধান শপথ নিয়েছেন। 

 

বিনোদন জগত থেকে রাজনীতির আঙিনায় পা রাখা এই নেতার হাত ধরেই ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবার কোনো অ-দ্রাবিড় (ডিএমকে বা এআইএডিএমকে বহির্ভূত) মুখ্যমন্ত্রী পেলো রাজ্যটি।

এর আগে, গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে বিজয়ের দল। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ‘ম্যাজিক ফিগার’ স্পর্শ করতে গত চারদিন তুমুল রাজনৈতিক নাটকীয়তা চলে। এই সময়ে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে চার দফা বৈঠক এবং সম্ভাব্য মিত্রদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করতে সক্ষম হন এই নেতা।

গত শনিবার রাজ্যপালের কাছে দেওয়া সমর্থনপত্রে বিজয় জানান, টিভিকের নিজস্ব বিধায়কদের পাশাপাশি কংগ্রেসের পাঁচজন, ভিসিকের দুইজন, সিপিআইর দুইজন, সিপিআইএমের দুইজন এবং আইইউএমএলের দুইজন বিধায়ক তাকে সমর্থন দিচ্ছেন। বিজয় নিজে দুটি আসন থেকে জয়ী হওয়ায় একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে, ফলে বর্তমানে এই জোটের মোট বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২০ জনে।

১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম তামিলনাড়ুর শাসনভার এমন কোনো দলের হাতে গেল যারা রাজ্যের প্রধান দুই দ্রাবিড় শিবিরের সদস্য নয়। বিজয়ের এই ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে গোটা চেন্নাই জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তার সমর্থকরা এই জয়কে তামিল রাজনীতির এক ‘নতুন সূর্যোদয়’ হিসেবে অভিহিত করছেন। শপথ গ্রহণ শেষে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয় এখন রাজ্য পরিচালনায় তার নতুন মন্ত্রিসভা এবং কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করবেন।

 

শপথগ্রহণের পর আগামী বুধবারের (১৩ মে) মধ্যে তাকে বিধানসভায় নিজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।

 

এর আগে, এদিন সকালে বিজয়ের এই ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চেন্নাই পৌঁছান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কংগ্রেসই প্রথম দল হিসেবে বিজয়কে সমর্থন জানিয়েছিল।

এদিকে চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তার অগণিত ভক্ত ও কর্মী-সমর্থকদের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ।

এর আগে, গত চারদিনে বিজয় চারবার রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শুরুতে সংখ্যার হিসাবে সন্তুষ্ট না হলেও শেষ পর্যন্ত জোটসঙ্গীদের সংহতি নিয়ে রাজভবনে যান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে টিভিকের জ্যেষ্ঠ নেতা কে এ সেনগোট্টাইয়ান এবং আধভ অর্জুনা ছিলেন। এবারের নির্বাচনে ডিএমকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট ভেঙে কংগ্রেস টিভিকে’কে সমর্থন জানানোয় রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © Domar News 24
Design & Development By HosterCube Ltd.