নীলফামারীর ডোমারের আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১০ শিক্ষার্থী। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলে বিদ্যালয়টির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য।
জানা যায়, ২০০০ সালে বিদ্যালয়টির নিম্ন মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত হয়। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে ভবন, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক কর্মচারী এবং সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দে নির্মিত একাধিক অবকাঠামো। তবে শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি নেই। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের খাতায় কলমে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৫৫ জন। অথচ প্রতিদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয় মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন। সেখানে ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে মাত্র কয়েকজন। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, ১০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনও কেন পাস করতে পারলেন না। এর দায় শিক্ষকরা এড়িয়ে যেতে পারেন না শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা, পড়াশোনায় আগ্রহী করা এবং মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার—এ প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর ১০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন ও পাস করতে পারেনি। কেন সকলে ফেল করলো জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি।
ডোমার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এটিএম নুরল আমিন শাহ আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কোন শিক্ষার্থী পাস করেনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিদ্যালয়টির ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
চলতি বছর ডোমার উপজেলার ৩৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২ হাজার ৮৬২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করে ১ হাজার ৬৩২ জন শিক্ষার্থী। এপ্লাস পায় ১৬৮ জন। উপজেলায় পাসের হার ৫৭.০২ শতাংশ।