নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এক বৃদ্ধা মাকে হত্যা করে নিজ শোয়ার ঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘরের মাটি খুঁড়ে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফের স্ত্রী মারুফা বেগম (৬০)কে তার ছেলে মো. জুয়েল (৩৫) হত্যা করে ঘরের ভেতরে পুঁতে রাখেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জুয়েল পেশায় একজন ভ্যানচালক।
নিহতের ছোট ছেলে লাবিন (৩০), যিনি একটি গার্মেন্টসে কর্মরত, ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে মাকে খুঁজে না পেয়ে সন্দেহ করেন। তিনি জানান, বাড়িতে এসে মা, বড় ভাই জুয়েল, ভাবি হাসি বেগম (২৭) ও ভাতিজা-ভাতিজিদের কাউকেই দেখতে পাননি। এ সময় বড় ভাইয়ের শোয়ার ঘরের মেঝেতে ফাটল এবং বিছানায় রক্তের চিহ্ন দেখতে পেয়ে তার সন্দেহ আরও বাড়ে।
পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। সংবাদ পেয়ে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ বুধবার (৪ জুন) রাত ১২টা ১০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের মাটি খুঁড়ে মারুফা বেগমের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।
লাশ উদ্ধারের সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত জুয়েল পালিয়ে যান। তার স্ত্রী ও সন্তানদেরও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।