domarnews24.com
সর্বশেষ :

ডোমারে ২০ পরীক্ষার্থীর জন্য ১০ শিক্ষক, পাস করেছেন একজন

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৩৮ Time View

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মাহিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ জন শিক্ষকের বিপরীতে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র পাস করেছেন একজন শিক্ষার্থী। সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলে এ তথ্য জানা গেছে।

পাস করা একমাত্র শিক্ষার্থী হলেন মানবিক বিভাগের বন্যা রানী রায়। তার প্রাপ্ত নম্বর ৩.৭২।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর এমন অনুপাতের পরও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সোমবার ফলাফল প্রকাশের পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, যেখানে শিক্ষার্থীর অর্ধেক শিক্ষক রয়েছে, সেখানে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন কেন পাস করল? আর ১৯ জনই করল ফেল।

জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে ১৮ বিঘা জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। আর এমপিওভুক্তি হয় ১৯৯১ সালে। বিদ্যালয়টিতে ১৪ বছর ধরে নেই ইংরেজি শিক্ষক। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সংকটও রয়েছে।

তবে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, এই বিশজন শিক্ষার্থীর মধ্যে যারা একটু ভালো, সেইসব ৮ জন শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা আর স্কুলে আসেনি। আমরা অসংখ্যবার তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বিদ্যালয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানানোর পরেও তারা ক্লাস করতে আসেনি। এমনকি ৬ষ্ঠ শ্রেণির অনেকেই শুধু ভর্তি হয়ে আছে, তাদের অনেকেই বিদ্যালয়ে আসে না।

ধর্ম শিক্ষক বঙ্কিম চন্দ্র রায় বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসার জন্য তাদের বাড়ি পর্যন্ত গেছি। তারপরও তারা স্কুলে আসে না। পড়ালেখা না করলে তারা কিভাবে পাস করবে?

বিদ্যালয়ের ভৌত শিক্ষক শাপলা রানী রায় বলেন, এখানকার অভিভাবকরা সচেতন নন। আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও তাদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে পারিনি। অনেক শিক্ষার্থী নামেই ফরম ফিলআপ করেছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করে। পড়াশোনা তারা না করেই পরীক্ষায় অংশ নেয়। না পড়লে কিভাবে তারা পাস করবে?

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তারা পদ রায় বলেন, ২০১২ সাল থেকে বিদ্যালয়টিতে কোনো ইংরেজি শিক্ষক নেই। ইংরেজি শিক্ষক না থাকায় পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিকে ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন ইংরেজি শিক্ষকের দরকার। তবে শিক্ষক না থাকায় ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে আসেনি। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।’ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট ছিল। সম্প্রতি নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী বছর ভালো ফল করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তবে ফলাফল বিপর্যয়ের ঘটনায় শিক্ষকদের পাঠদান ও নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন ব্যক্তিরা। তাঁদের দাবি, এমন ফলাফল কেন হলো, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এটিএম নুরল আমিন শাহ বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ফলাফল বিপর্যয় কেন ঘটল, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © Domar News 24
Design & Development By HosterCube Ltd.